পিরোজপুরে কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক গাছের চারার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদেরকে দিয়ে রোপণ করালেন গাছের ডাল। এই ঘটনা ঘটেছে উপজেলার আমরাজুড়ি ইউনিয়নের ১৪ নম্বর সোনাকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সবুজে সাজানোর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙিনায় তিনটি করে গাছের চারা রোপণ করার জন্য বলেন।
এবিষয়ে গত সোমবার অধিদপ্তরের সাধারণ প্রশাসন শাখার সহকারী পরিচালক মো. সাজ্জাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সকল স্কুলে তিনটি করে গাছের চারা রোপণের এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে গতকাল বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করে বৃক্ষরোপণ এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাউখালী উপজেলা ৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই সময়ে উপজেলার প্রতিটি বিদ্যালয়ে একটি ফলদ, একটি বনজ ও একটি ওষধি গাছের চারা রোপণ করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। সেখানে উপজেলার ১৪ নম্বর সোনাকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র হালদার গাছের চারা না লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের দিয়ে গাছের ডাল রোপণ করেন।
জানা যায়, শ্যামল চন্দ্র হালদার গত বুধবার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালনের জন্য স্কুলের দপ্তরিকে দিয়ে একটি আম গাছ, একটি বড়ই গাছ ও একটি অর্জুন গাছ থেকে ডাল কেটে এনে নিজে উপস্থিত থেকে তা স্কুলের শিক্ষার্থীদের দিয়ে রোপণ করান। এসময় প্রধান শিক্ষক গাছের ডাল রোপণের ছবি তুলে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকদের গ্রুপেও আপলোড দেন। বৃক্ষরোপণের নামে শিক্ষার্থীদের দিয়ে প্রহসনমুলক গাছ লাগানোয় স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও সচেতন মহল হতবাক। তারা ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলেন, গত বুধবার দুপুরে হেড স্যারসহ অন্য স্যাররা আমাদেরকে ক্লাস থেকে ডেকে এনে একটি করে আম, বড়ই ও অর্জুন গাছের ডাল লাগানোর জন্য বলেন। আমরা স্যারদের কথা মতন ওই গাছের ডালগুলো লাগাই। এসময় স্কুলের স্যাররা আমাদের গাছ লাগানোর ছবিও তোলেন।
স্কুলের দপ্তরি রেজাউল ইসলাম বলেন, আমি হেড স্যারের নির্দেশে স্কুলের পাশের আম গাছ, বড়ই ও অর্জুন গাছ থেকে চারটি ডাল কেটে আনি। পরে ওই গাছের ডালগুলো দুপুরের দিকে হেড স্যার ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়ে স্কুলের আঙিনায় রোপণ করান।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য আল আমিন বলেন, স্কুপ্রধান শিক্ষক অন্য স্যারদের নিয়ে চারটি গাছের ডাল শিক্ষার্থীদেরকে দিয়ে স্কুলের আঙিনায় রোপণ করান। বিষয়টি শুনে গতকাল বৃহস্পতিবার স্কুলে গিয়ে স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের সামনে আগের দিন লাগানো চারাগুলো উঠালে দেখি সব গাছের ডাল। পরে নতুন করে চারা এনে ওই জায়গায় লাগিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।
নাম না প্রকাশের শর্তে স্কুলের এক সহকারী শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে স্কুলের আঙিনায় গাছের চারার পরিবর্তে তিনটি গাছের ডাল রোপণ করা হয়।
গাছের চারা রোপণ না করে গাছের ডাল লাগানোর বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র হালদার বলেন, সোনাকুর একটি ঝামেলার জায়গায়। আপনি এসে একটু দেখে যান।
সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে এখন শুনলাম। এ ধরনের কাজ করে থাকলে প্রধান শিক্ষক অন্যায় করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্হা গ্রহন করা হবে।
এবিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মোল্লা বক্তিয়ার রহমান বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে অবগত হলাম। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে বলেছি।
দ.ক.সিআর