বাহুবল প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের বাহুবলে বহিষ্কৃত যুবদল নেতা মীর নাছিমের বিরুদ্ধে নন্দনপুর বাজারে সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভয়-ভীতির মাধ্যমে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় আব্দামানিক্য গ্রামের মীর আব্দুল জলিলের ছেলে মীর নাছিমের চাদাবাজির বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন ওই বাজারের ব্যবসায়ীসহ এলাকাবাসী।
নন্দনপুর বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, খোদ নাছিমের পিতা মীর আব্দুল জলিল তার অন্যায়-অত্যাচার সইতে না পেরে বাড়ি ছেড়ে হবিগঞ্জ শহরের বাসায় অবস্থান করেন। সেখানেও অসহায় পিতা ঔরসজাত সন্তানের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়েট বর্তমানে সিলেটে বসবাস করছেন।
বাজারের সব্জি ব্যবসায়ী মোঃ কাওছার মিয়া জানান, মীর নাছিম এতই বেপরোয়া যে, সে কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে বাজার ও আশপাশ এলাকায় বেপরোয়াভাবে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে ওই ব্যবসায়ী বলেন, তার কাছ থেকেও নাছিম ২৫০ টাকা নিয়েছে।
একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ছাব্বিশের ৫ আগস্টের পর নাছিমের নেতৃত্বে একটি চাঁদাবাজ চক্র সক্রিয় হয়ে উঠে। তার সহযোগীরা আড়ালে থাকলেও প্রকাশ্যে চাঁদাবাজিতে নামে নাছিম।
বাজারের গ্রীল ব্যবসায়ী এলাছ মিয়ার সাথে চাদাবাজীর ঘটনায় প্রকাশ্য ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। এর কিছুদিন পর জাহির মিয়ার ধানের ট্রাক আটকের মাধ্যমে তার চাঁদাবাজির সাম্যাজ্যের জানান দেয়। ওইদিন বাজারের সেক্রেটারি ফুল মিয়ার হস্তক্ষেপে বিষয়টি তাৎক্ষণিক সমাধান করা হয়। নাছিমের শ্যালেক সিএনজি চালক ছাদিক মিয়া বলেন সে তার আপন ছোট বোন জামাই। তার অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। একইভাবে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী ওয়াহিদ মিয়া, আওলাদ মিয়া ও সিএনজি ট্যান্ড ম্যানেজার মতলিব মিয়াসহ ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।
তার বিরুদ্ধে এলাকায় নিরিহ ও সংখ্যালগু লোকদের হুমকি, মামলা মোকদ্দমার ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাহুবল উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আব্দুল হান্নান নানু ও সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল আহাদ কাজলের স্বাক্ষরিত এক পত্রে গত ৭ জুলাই নাছিমকে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপরও থামছে না তার অন্যায় অপকর্ম।
গত ১৩ জুলাই দুপুরে ভয়ভীতির মাধ্যমে চাঁদাবাজিকালে নাছিমকে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা আটক করেন। পরে খবর পেয়ে বাহুবল মডেল থানার এসআই সাদ্দাম ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন এবং ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন।
দ.ক.সিআর.২৬