হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে হবিগঞ্জের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বিকেজিসি ও পিটিআই স্কুলের কোনো শিক্ষার্থীর নাম না আসায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। ফলাফল প্রকাশের পরপরই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে শুরু হয় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।
বুধবার (১৫ জুলাই) এই নজিরবিহীন ঘটনার প্রতিবাদে শহরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রতিবছর এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বৃত্তির তালিকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় স্থান পেয়ে থাকে। কিন্তু চলতি বছরে হঠাৎ করেই কোনো শিক্ষার্থীর নাম না আসা তাদের কাছে বিস্ময়কর ও প্রশ্নবিদ্ধ। তারা ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানান।
প্রতি বছরই হবিগঞ্জ জেলায় প্রাথমিক বৃত্তির ফলাফলে মেধা তালিকার সিংহভাগ দখল করে থাকে এই তিনটি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়। কিন্তু আজ ঘোষিত ফলাফলে এই তিন স্কুলের একজন শিক্ষার্থীর নামও বৃত্তির তালিকায় না আসায় হতবাক সবাই।
প্রতিবাদকারী এক অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানরা সারা বছর কঠোর পরিশ্রম করেছে। ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু এমন ফলাফল আমাদের হতাশ করেছে। বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত করে দেখা উচিত।”
আরেক অভিবাবক বলন, এই তিনটি স্কুল থেকে প্রতি বছরই শত শত শিক্ষার্থী বৃত্তি পায়। এবার একটা শিক্ষার্থীর নামও তালিকায় নেই! এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নিশ্চিতভাবেই এখানে কোনো বড় ধরনের গোলমাল হয়েছে। আমরা অবিলম্বে এই ত্রুটিপূর্ণ ফলাফল বাতিল করে সঠিক ফলাফল প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।”
শিক্ষার্থীরাও একই সুরে বলেন, পরীক্ষায় ভালো করার পরও ফলাফলে নাম না থাকায় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। দ্রুত বিষয়টির সমাধান চান তারা।
এদিকে সচেতন মহল মনে করছে, ফলাফল প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি বা অসঙ্গতি রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক ফলাফল প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। এটি কোনোভাবেই স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না। উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ডাটা এন্ট্রি কিংবা সার্ভারের কোনো বড় ধরনের কারিগরি ভুলের (Technical Error) কারণে এই তিনটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের নাম ফলাফল থেকে বাদ পড়েছে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অস্বাভাবিক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কোনো প্রযুক্তিগত বিভ্রাট বা ডাটা এন্ট্রির ভুল হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিষয়টি সমাধান করে সংশোধিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে তারা আশ্বস্ত করেছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট সকলেই।
দ.ক.সিআর