জসিম উদ্দিন বাহুবল : হবিগঞ্জের বাহুবলে গ্রাম্য রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘটিত ডাবল মার্ডারের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯।
রবিবার রাত ৯টা ১০ মিনিটে র্যাব-৯ এর সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল বাহুবল উপজেলার মিরপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মুশাহিদ মিয়া (৫৫)। তিনি বাহুবল উপজেলার তেলীকান্দি গ্রামের মৃত মুসলিম মিয়ার ছেলে। তিনি বাহুবল মডেল থানার মামলা নং-১৩, তারিখ: ২৩ জুন ২০২৬ এর এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি।
র্যাব-৯ এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এলিট ফোর্স হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই হত্যা, সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি ও জঙ্গি দমনে র্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
যেভাবে ঘটেছিল ডাবল মার্ডার:
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাহুবল উপজেলার আতিদ্যপুর এলাকার বাসিন্দা সেলু মিয়া ও হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে প্রতিপক্ষের গ্রাম্য চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি মীমাংসার জন্য ২০২৬ সালের ১৫ জুন সন্ধ্যায় বাহুবল থানায় সালিশ বৈঠকের দিন ধার্য করা হয়।
সালিশের কথা শুনে ক্ষুব্ধ হয়ে ওইদিন দুপুরেই ডুবাঐ বাজার সংলগ্ন এলাকায় সেলু মিয়ার পথরোধ করে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে প্রতিপক্ষরা। তার চিৎকার শুনে হেলাল উদ্দিন এগিয়ে এলে তাকেও একইভাবে নৃশংসভাবে আঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সেলু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় হেলাল উদ্দিনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেদিন রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত সেলু মিয়ার স্ত্রী বাদী হয়ে বাহুবল মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। আসামি হস্তান্তর, বাকিদের ধরতে অভিযান!
গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মুশাহিদ মিয়াকে বাহুবল মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৯ জানিয়েছে, এই ডাবল মার্ডার মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাহুবল মডেল থানার ওসি জানান, র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
দ.ক/জিএম