জসিম উদ্দিন, বাহুবল: সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেও হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ১০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীও বৃত্তি পায়নি। অথচ একই উপজেলার বেসরকারি স্কুলগুলো পেয়েছে ১৬টি বৃত্তি।
এই ফলাফল প্রকাশের পর উপজেলা জুড়ে ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। অভিভাবক ও সচেতন মহলের সরাসরি প্রশ্ন - প্রাথমিক শিক্ষার মান কোথায় গিয়ে ঠেকেছে? আর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভূমিকা কী?
সরকারিতে শূন্য, বেসরকারিতে ১৬।
সদ্য প্রকাশিত বৃত্তির ফলাফল অনুযায়ী বাহুবল উপজেলার ১০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শত শত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও বৃত্তির তালিকায় তাদের নাম নেই।
অন্যদিকে বেসরকারি স্কুলগুলোর চিত্র ভিন্ন। ট্যালেন্টপুলে ৬টি ও সাধারণ গ্রেডে ১০টি সহ মোট ১৬টি বৃত্তি এসেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে।
অভিভাবকদের অভিযোগ: তদারকি নাই, দায়িত্ব নাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক বলেন, “একটা উপজেলায় ১০৩টা সরকারি স্কুলে একজনও বৃত্তি পাবে না এটা কিভাবে সম্ভব? বছরের পর বছর বেতন দিয়ে শিক্ষক রাখা হচ্ছে, অফিস চলছে - কাজটা কী?”
তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত একাডেমিক তদারকি নেই। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় মনিটরিং, প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন যথাযথভাবে হচ্ছে না। ফলাফলই তার প্রমাণ।
এক অভিভাবক আরও বলেন, “এটি শুধু ফলাফল না, এটি উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার জন্য লাল সতর্কবার্তা। দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।”
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিভাবকদের দাবি, এই শূন্য ফলাফলের পেছনের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণ এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা।
তারা আরও বলেন, বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত একাডেমিক পরিদর্শন, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাস এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ জোরদার করতে হবে। অন্যথায় সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমবে।
একটি উপজেলার ১০৩টি সরকারি স্কুলে শূন্য বৃত্তি - এটা দুর্ঘটনা নয়, এটি ব্যর্থতার দলিল।
দ.ক/জে.এম