বাহুবল প্রতিনিধি: সৌদি আরবের রিয়াদে অপহৃত হয়ে মুক্তিপণ দিয়ে দেশে ফিরেছেন বাহুবল উপজেলার গকুলপুর গ্রামের মো. নবী হোসেন (২৩)। অপহরণকারীরা দেশীয় বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে তার বড় ভাইয়ের কাছ থেকে ৪২ হাজার টাকা আদায় করে। ৪ দিন হলো নবী হোসেন দেশের বাড়িতে ফিরেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার পর ভিক্টিমের বড় ভাই মো. জমির আলী ৩ দিন বাহুবল মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ নিয়ে গেলেও থানা তা গ্রহণ করেনি। অথচ থানা পুলিশই ওই 01857640000 বিকাশ নম্বর ট্র্যাক করে আসামির নাম-ঠিকানা বের করে দিয়েছে।
জমির আলীর দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগে উল্লেখ আছে, গত ০২/০১/২০২৬ ইং তারিখে নবী হোসেন সৌদি যান। ০৩/০৬/২৬ তারিখে শেষ কথা হয়। ১৩ দিন পর ১৫/০৬/২৬ তারিখে "Md. mamun" নামের ইমু আইডি থেকে অপহরণের কথা জানিয়ে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। ভাইয়ের জীবন বাঁচাতে ১৫ তারিখ ৩৪,০০০ ও ১৬ তারিখ ৭,০০০ টাকা পাঠানো হয়। টাকা নিয়েও নবীকে ছাড়া হয়নি। পরে সে নিজেই কোনোভাবে দেশে ফিরে আসে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, জাতীয় দৈনিকের প্রতিনিধির কাছে বাহুবল থানার ওসি সাহেব বলেছেন, "থানায় এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি"।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত এক মাসের মধ্যেই বাহুবল উপজেলায় ৪/৫টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলেও একটি মহল ফেসবুকে থানার "আইনশৃঙ্খলা ভালো" বলে প্রচার করে যাচ্ছে।
প্রশ্ন উঠেছে - একদিকে অপহরণ-মুক্তিপণ-খুন, অন্যদিকে প্রশংসার পোস্ট। এরা কি নিজের ফায়দা হাসিলের জন্য তেল মারছে? এরা কি বাহুবলের মানুষের পক্ষে না বিপক্ষে?
প্রসংশাকারীদের মুখোশ উন্মোচন করতে আগামীকাল সাংবাদিকরা নবী হোসেনসহ একাধিক ভিক্টিমের বাড়িতে যাবেন। তারা সরাসরি ভিক্টিমদের মুখের কথা শুনবেন।
ভিক্টিমের পরিবার দ্রুত মামলা নিয়ে আসামিদের গ্রেফতার ও টাকা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে যারা অভিযোগ গ্রহণ করেনি এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা চান।
দ.ক.সিআর.২৬