স্টাফ রিপোর্টার: পুলিশকে ঘিরে নানা সময় সমালোচনা থাকলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমন অনেক কর্মকর্তা রয়েছেন, যারা সততা, দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। তাঁদের কর্মদক্ষতা ও জনসেবামূলক কার্যক্রম পুলিশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এমনই একজন কর্মকর্তা হবিগঞ্জের বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাহুবল মডেল থানায় দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রায় সাত মাসের মধ্যে উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলে অনেকের অভিমত। থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনা, দ্রুত আইনি সহায়তা প্রদান এবং হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
জানা গেছে, থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা গ্রহণে কোনো ধরনের অবৈধ অর্থ লেনদেনের সুযোগ না রাখতে তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান এবং নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি স্থানীয়দের কাছেও প্রশংসিত হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি অপরাধ দমনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন তিনি। মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায়ও বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ওসি সাইফুল ইসলাম দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডেও অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন। পারিবারিক বিরোধ মীমাংসা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে তিনি সরাসরি উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানের কারণে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে ওই মহল বিভিন্ন সময় ওসি সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন করলেও, এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।
এলাকাবাসীর দাবি, তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর অপরাধ দমনে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকেই মনে করেন, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ফলে এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ওসি সাইফুল ইসলামের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সাধারণ মানুষের জন্য তাঁর দরজা সবসময় উন্মুক্ত রাখা। থানায় গেলে সহজেই তাঁর সঙ্গে দেখা করা যায় এবং তিনি ধৈর্যের সঙ্গে মানুষের কথা শোনেন। এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, "ওসি সাহেবের কক্ষে যেতে কোনো জটিলতা নেই। যেকোনো সমস্যায় তিনি আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন।" বিভিন্ন সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও তিনি আদালতমুখী না হয়ে আইনগত সীমার মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানকে উৎসাহিত করেন। তাদের মতে, যেখানে আইনগতভাবে সম্ভব, সেখানে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হলে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় মামলা কমে।
ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, "পুলিশের চাকরি শুধু আইন প্রয়োগের দায়িত্ব নয়, এটি মানুষের সেবার একটি বড় সুযোগ। জনগণের আস্থা অর্জন করে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করাই আমার লক্ষ্য। আজ এখানে, কাল অন্য কোথাও—কিন্তু মানুষের ভালোবাসাই একজন পুলিশ কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।"
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জনসম্পৃক্ত পুলিশিং, স্বচ্ছতা, মানবিকতা ও পেশাদারিত্বের সমন্বয়ে কাজ করলে জনগণের আস্থা আরও বাড়বে। তাঁদের বিশ্বাস, এ ধরনের উদ্যোগ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং পুলিশ-জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
দ.ক./এনআইআর