মাধবপুর প্রতিনিধি: ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টিতে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমি, মাছের খামার, সড়ক ও বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খাল-ছড়া উপচে পানি প্রবেশ করায় তলিয়ে গেছে আউশ ধান ও মৌসুমি সবজির ক্ষেত। নদী ও খালের ভাঙনে অনেক বসতঘর এখন হুমকির মুখে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চুনারুঘাট-রামগঙ্গা সড়ক এবং ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের সাতছড়ি ও সুরমা চা বাগান এলাকায় একাধিক স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর আগে রামগঙ্গা ও চন্ডিছড়া মাজার এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার করা হলেও নতুন করে ভারী বৃষ্টিতে ওই স্থানগুলো আবারও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বুধবার উপজেলা প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন।
চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ বলেন, ভবানীপুর এলাকায় নতুন খাল খননের পর পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে কয়েকটি বসতঘর ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আন্দিউড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি ঢলে একাধিক মাছের খামার তলিয়ে গেছে। মাছচাষি মুর্শেদ মিয়া জানান, আকস্মিক ঢলে তার চারটি পুকুরের মাছ ভেসে গিয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। একইভাবে আরও ১০ থেকে ১২ জন মাছচাষী বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
শাহজাহানপুর ইউনিয়নের কৃষক আলী হোসেন জানান, সীমনা ছড়া, হলহলিয়া ছড়া ও তেলিয়াপাড়া ছড়া দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি পানিতে বরবটি, শসা, লাউ, চালকুমড়া, চিচিঙ্গা, টমেটোসহ বিভিন্ন সবজির ক্ষেত এবং আউশ ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকার বলেন, টানা বর্ষণে সবজি ও আউশ ধানের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে।
হবিগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, অতিবৃষ্টিতে পাহাড় ও চা বাগান এলাকায় ভূমিধসের সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের অন্তত ১০টি স্থানে ছোট-বড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। চন্ডিছড়া, রামগঙ্গা, সাতছড়ি ও ২০ নম্বর এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে সড়ক রক্ষার কাজ চললেও টানা বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, বৃষ্টিজনিত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দ.ক/এন.এইচ