স্টাফ রিপোর্টার: হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে একই পরিবারের সদস্যদের ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলে সক্রিয় থাকার বিষয়টি এখন স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের একটি প্রভাবশালী পরিবারের তিন ভাই বর্তমানে তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, একই পরিবারের বড় ভাই দীর্ঘদিন ধরে খেলাফত মজলিসের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। মেজ ভাই হুমায়ূন রশীদ জাবেদ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। অন্যদিকে ছোট ভাই সালেহ আহমেদ আবিদ বর্তমানে বাহুবল উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে সালেহ আহমেদ আবিদ তার মেজ ভাইয়ের অনুসারী হিসেবে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন এবং নিজেকে উপজেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। তবে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তিনি গড়েছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড় ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে করছেন তদবির বানিজ্য। এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আরেকটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা হুমায়ূন রশীদ জাবেদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক মামলা হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, তিনি সাবেক সংসদ সদস্য শাহ নেওয়াজ মিলাদ গাজীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে বিভিন্ন মামলার তালিকায় তার নাম না থাকায় বিষয়টি নিয়েও এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।
কিছু স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, ছোট ভাই সালেহ আহমেদ আবিদের রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে হুমায়ূন রশীদ জাবেদ আবারও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম সক্রিয় করার চেষ্টা করছেন।
জানা যায়, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে হুমায়ূন রশীদ জাবেদ ভাদেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ছিলেন। বর্তমানে একই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হয়েছেন তার আপন ছোট ভাই সালেহ আহমেদ আবিদ।
তবে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই পরিবারের সদস্যদের ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলে সক্রিয় থাকা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন নয়। কিন্তু রাজনৈতিক আদর্শ ও অবস্থানের ঘন ঘন পরিবর্তন সাধারণ মানুষের মাঝে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।
দ.ক/সিআর