কালনেত্র প্রতিবেদক: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রাজার বাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে গোয়াল ঘর তৈরি করে গরু লালন পালন করছেন এক শিক্ষক। এতে পরিবেশ চরম আকারে দুষিত হচ্ছে।
বেশ কিছুদিন ধরে বিদ্যালয়ে গরু লালন পালন করায় শিক্ষার্থীরা পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বর্জ্য চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ায় রোগ ব্যাধি ছড়াচ্ছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। এমন কাজের সঙ্গে জড়িতের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এলাকাবাসির।
জানা গেছে, চুনারুঘাট উপজেলার রাজার বাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে চার শতাধিক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছেন। গত এক বছর ধরে বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনের নিচতলায় গোয়াল ঘর তৈরি করে শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গির আলম গরু লালন পালন করছেন। এতে বিদ্যালয়ের পরিবেশ চরম আকারে দুষিত হচ্ছে। বর্জ্য চারিদিকে ছড়িয়ে পরায় পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পরেছে বিদ্যালয়টি। দুর্গন্ধে শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে নিষেধ করা সত্ত্বেও তা মানছেন না- এমন অভিযোগ অভিভাবকদের। দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর।
বুধবার দুপুরে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের মাঠে ২টি গরু বাঁধা আছে। বিদ্যালয়ের মাঠ বর্জ্যে ভরে আছে। শিক্ষার্থীদের নাক চেপে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে হচ্ছে। মশা-মাছি ছড়িয়ে পড়ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানানা, বিদ্যালয়ে গোয়াল ঘর থাকায় গরুর খাবারের খড়-কুটা ও ঘাসে একাকার হয়ে থাকে। গোবর ও খড়-কুটার বর্জ্য চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত বিদ্যালয় থেকে গরু ও গোয়াল ঘর অপসারণের দাবি তাদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বলেন, গত কয়েক বছর ধরে শিক্ষক জাহাঙ্গির আলম বিদ্যালয় ভবনে গোয়াল ঘর তৈরি করেছেন। এতে বিদ্যালয়ের পরিবেশ চরম বিপর্যয় ঘটেছে। তাকে বারবার গরু ২টি সরাতে বলা সত্ত্বেও তিনি তা করছেন না।
স্থানীয়রা আরও জানান, শিক্ষক জাহাঙ্গির আলমের এক আত্মীয় পুলিশের বড় কর্মকর্তা হওয়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সরব ভূমিকা পালন করে আসছেন।
চুনারুঘাট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ কাওছার শোকরানা জানান, বিষয়টি আমি অবগত নই। খোঁজখবর নিয়ে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
দ.ক.সিআর.২৬