কালনেত্র প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় পুশ ইন ঠেকাতে বিজিবি কঠোর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভারত থেকে অবৈধ পুশ-ইন ঠেকাতে হবিগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর উদ্যোগ অব্যাহত ।
গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভার নির্বাচনে বিজেপি জয়লাভের পর বাংলা ভাষাভাষী লোকজনকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি’ অ্যাখা দিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার চেষ্টা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। চলতি মাসে বিএসএফের পুশ ইন (জোর করে লোকজনকে ঠেলে দেওয়া) করার ঘটনা বেশ বেড়েছে। দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকার শুন্য রেখায় এখনও অবস্থান করছেন পুশ ইনের শিকার মানুষ। দেশের অভ্যন্তরে অবৈধ ভাবে প্রবেশ করতে পারেননি তারা। তবে সুযোগ বুঝে বিসএসএফ যাতে ফের পুশ ইন করতে না পারে, সেজন্য তৎপরতা বাড়িয়েছে বিজিবি।
বিজিবি বলছে, কেউ বাংলাদেশি নাগরিক হলে অবৈধ ভাবে সীমান্তের এ পারে পুশ ইন না করে আইন অনুযায়ী তাকে প্রত্যাবর্তন করা হোক। রাষ্ট্র টু রাষ্ট্র বিষয়টি সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বিএসএফ সেই আইনি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে অবৈধ ভাবে সীমান্তের এ পারে ঠেলে দিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে।
বিজিবি আরও জানায়, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় বিজেপি সরকার আশার পর পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পুশ ইন করার ঘটনা বেড়েছে। তবে পুশ ইন প্রতিরোধ ও সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে হবিগঞ্জ সীমান্তে টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি)। ভারত থেকে অবৈধ ভাবে পুশ-ইন ঠেকাতে জনসাধারণকে সাথে নিয়ে তীব্র প্রতিরোধ ব্যুথ গড়ে তুলেছে বিজিবি।
বিজিবির হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন জানায়, ভারত থেকে অবৈধ পুশ-ইন ঠেকাতে সীমান্তে টহল ও নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক প্রচারণা, চিহ্নিত স্থানসমূহে স্ট্যান্ডবাই ডিউটি, নিজস্ব ও বেসামরিক গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, মাইকিং, গণসংযোগ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারণের সাথে মতবিনিময় সভা পরিচালনা করা হচ্ছে। পুশ-ইন প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
এছাড়াও সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কর্মকান্ড সম্পর্কে দ্রুত বিজিবিকে তথ্য প্রদানের জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
৫৫ বিজিবির অধিনায়ক কর্ণেল তানজিরুল ইসলাম জানান, সীমান্তে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় বিজিবির এ উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
দ.ক.সিআর.২৬