হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জে গ্রামীণ কিশোরীদের ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে স্বাস্থ্যবিধি কর্ণার স্থাপন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার জেলার চারটি স্কুল ও একটি মাদ্রাসায় এ ‘স্বাস্থ্যবিধি কর্নার’ স্থাপন করা হয় শেভরন বাংলাদেশের অর্থায়নে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সুইসকন্ট্যাক্টের ‘স্মাইল’ (SMILE) প্রকল্পের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে।
শেভরন বাংলাদেশ সূত্রে জানাগেছে, বাংলাদেশে ঋতুস্রাবকালীন দারিদ্র্য এখনও শিক্ষার পথে বড় বাধা। স্যানিটারি প্যাড কেনার সামর্থ্য না থাকায় প্রতি চারজন কিশোরীর একজন ঋতুস্রাবের সময় স্কুলে অনুপস্থিত থাকে। পাশাপাশি ৮৫ শতাংশের বেশি নারী ও কিশোরী সাশ্রয়ী পণ্য ও পর্যাপ্ত স্যানিটেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এই বাস্তবতায় কেবল সচেতনতা নয়, প্রয়োজন বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান। গ্রামীণ শিক্ষায় ডিজিটাল স্বাস্থ্যবিধির নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয় শেভরনের পক্ষ থেকে।
মঙ্গলবার (৩ জুন) দুপুরে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার নাদামপুর উচ্চবিদ্যালয়, ইনাতগঞ্জ হাইস্কুল, দীঘলবাক হাইস্কুল, আউশকান্দি হাইস্কুল ও মোস্তফাপুর ফাজিল মাদ্রসার কিশোরীদের ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে স্বাস্থ্যবিধি কর্ণার স্থাপন করা হয়। শেভরন বাংলাদেশের অর্থায়নে এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সুইসকন্ট্যাক্টের ‘স্মাইল’ (SMILE) প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয় এ প্রকল্পটি।
স্থাপিত স্বাস্থ্যবিধি কর্নারগুলো থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কিশোরী স্বাস্থ্য সহায়তা পাবে। কর্নারগুলো নিরাপদ, সহজলভ্য ও আরামদায়ক, যেখানে ব্যক্তিগতভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সুযোগ রয়েছে। এর কেন্দ্রবিন্দুতে আছে আইওটি-সক্ষম স্যানিটারি ন্যাপকিন ডিসপেনসার মেশিন। এই মেশিনের মাধ্যমে রিয়েল-টাইমে মজুত পর্যবেক্ষণ, সময়মতো পুনঃপূরণ এবং ব্যবহারের তথ্য ট্র্যাক করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে গ্রামীণ এলাকাতেও প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যবিধি সেবা কার্যকরভাবে সফলতার মুখ দেখছে। এ ছাড়া কিশোরীদের ভর্তুকি মূল্যে স্যানিটারি প্যাড দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে স্বল্প আয়ের পরিবারের জন্য পণ্যটি সাশ্রয়ী হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে উৎসাহ মিলছে।
শেভরন বাংলাদেশের মুখপাত্র ও যোগাযোগ ব্যবস্থাপক জাহিদ রহমান বলেন, শেভরন বাংলাদেশ ও সুইসকন্ট্যাক্টের অংশীদারিত্বে নেওয়া এ উদ্যোগ মেয়েদের দৈনন্দিন বাস্তবতা বদলে দিতে পারে। স্মার্ট প্রযুক্তির সঙ্গে সহজলভ্য স্বাস্থ্যবিধি সমাধান যুক্ত করে উদ্যোগটি শুধু ঋতুস্রাবকালীন দারিদ্র্য মোকাবেলাই নয়, মেয়েদের স্কুলে থাকা, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যবিধি অভ্যাস গড়ে তোলা এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিবে বলে তিনি মনে করেন।
দ.ক.সিআর.২৬