আসাদ ঠাকুর: ঈদের ছুটিতে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের রামগঙ্গা চা বাগান ও আশপাশের পর্যটন স্পটগুলো দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে। সবুজ পাহাড়, আঁকাবাঁকা মেঠোপথ, আর চা গাছের মায়াবী সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা এখানে ছুটে আসেন।
হবিগঞ্জের চা বাগান গোটা বৃহত্তর সিলেটের অন্যতম রামগঙ্গা। রামগঙ্গার আকর্ষণ হলো- চা বাগানটি প্রায় ৪ কিলোমিটার লম্বা এবং ২.৫ কিলোমিটার চওড়া। সারি সারি চা গাছ, চা বাগানের মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা বড় বড় ছায়াবৃক্ষ, আর উঁচু-নিচু টিলার প্রাকৃতিক রূপ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এছাড়া চা বাগানের সবুজ বুকে 'বিউটিফুল চুনারুঘাট' নামফলকটি পর্যটকদের ছবি তোলার জন্য একটি জনপ্রিয় স্থানে পরিণত হয়েছে।
ঈদের দিন সকাল ১০টার পর থেকেই রামগঙ্গা চা বাগান পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। শুধু রামগঙ্গাই নয় পর্যটকরা পুরাতন মহাসড়কের চুনারুঘাট থেকে তেলিয়াপাড়া পর্যন্ত চা বাগানের পথে পথে মানুষের ভিড় নামে। রেমাকালেঙ্গা অভয়ারন্য, গ্রিনলান্ড পার্ক, রামগঙ্গা ব্রিজ পয়েন্ট, পরীবিল ও শাপলাবিলসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে স্মরণকালের রেকর্ড সংখ্যক পর্যটকদের ভিড় ছিল।
রামগঙ্গা চা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের পদভারে মুখর হয়ে উঠেছে এ এলাকা। ছোট বড় প্রায় সব বয়সী পর্যটকদের আনাগোনা দেখা গেছে। পর্যটকদের ভিড় সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছে পুলিশ, বন বিভাগ ও ভলান্টিয়ারদের।
রামগঙ্গার পাশাপাশি পর্যটকরা চুনারুঘাটের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য এবং পার্শ্ববর্তী চা বাগানগুলোও ঘুরে দেখেন। বর্তমানে পর্যটকদের জন্য বাগানের আশেপাশে বিভিন্ন ফুড কার্ট ও স্থানীয় খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে।
চা বাগানের পথে পথে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। পথে পথে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন অস্থায়ী দোকানপাট। যেন সারা রাস্তাই মেলার পরসা বসেছে। শিশু কিশোররাও চা বাগান ও ছড়াগুলোতে মনের আনন্দে খেলা করেছেন।
চুনারুঘাট থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঈদ পর্যটনে আন্তরিকভাবে কাজ করেছে। বিশেষ করে চুনারুঘাট থেকে সাতছড়ি পর্যন্ত ৫টি টিম কাজ করেছে। ফলে এবার ঈদের ছুটিতে কোনো দুর্ঘটনা কিংবা কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণে আমরা সচেষ্ট আছি।
দ.ক.২৬