আসাদ ঠাকুর: উচ্চ আদালত ও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কড়া নির্দেশনার পরও থামছে না অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। কোন ধরনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বিভিন্ন ছড়া ও খোয়াই নদীর গর্ভ থেকে শ্যালো মেশিনে বালু উত্তোলন করছে কারবারিরা। নদীর পাড়ে বালু ফেলার ফলে নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমির উর্বরতা। এমনকি ট্রাক, ট্রাক্টর, এস্কেবেটর নদীর তীরে নেয়ার জন্য নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্বিচারে কাটা হচ্ছে।
অবৈধ এই কারবার বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বার বার জরিমানা করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয় না। প্রভাবশালী বালু কারবারিদের ভয়ে স্থানীয় লোকজন কিছু বলতে সাহসও পায় না। এতে নদী, ব্রীজ ও প্রতিরক্ষাবাঁধ হুমকির মুখে আজ।
কারবারিরা কাজিরখিল সেতু, পাকুড়িয়া সেতু, রাজার বাজার সেতু এলাকাসহ কাছুয়া ও আমকান্দির ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিরক্ষাবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় শতাধিক শ্যালো মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। যেকারণে উপজেলার ৩০টি পয়েন্ট দিয়ে খোয়াই নদীর পাড়ে ঢুকছে ট্রাক, ট্রাক্টর, এস্কেবেটর মেশিন। প্রতিদিন ট্রাক, ট্রাক্টর দিয়ে বালু নেওয়ায় নদী পাড়ের প্রতিরক্ষাবাঁধ এখন হুমকির মুখে।
এদিকে বিপননের জন্য রাস্তার পাশে বালু এনে স্তুপ করে রাখার ফলে মারা যাচ্ছে রাস্তার পাশের মূল্যবান গাছপালাও। বালু কারবারিদের এমন বিধ্বংসী দৃশ্য শিক্ষা-সংস্কৃতি সমৃদ্ধ ঐতিহ্যবাহী এলাকা রাজার বাজারে ঢুকতেই যেকারও চোখে পড়বে সারি করে দাড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকটি আকাশমনি ও মেহগণি মরা বৃক্ষ!
এছাড়া রাস্তার পাশে বালুর ডিপো করায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। ২৫টন বালু ভর্তি শতাধিক ট্রাক দিয়ে প্রতিদিন বালু পরিবহণ করায় যানজট সহ এলাকার সড়কে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
অপরদিকে খোয়াই নদীর বিভিন্ন অংশের ইজারাদার নিয়মের বাইরে গিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। তারা বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুসরণ না করে বালু উত্তোলন করায় সংশ্লিষ্ট এলাকার বাড়িঘরসহ রাস্তাঘাট ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
জনপ্রতিনিধি ও প্রসাশনের সূদৃষ্টি প্রত্যাশা করছেন খোয়াই নদী অধ্যষিত এলাকার জনসাধারণ।
দ.ক.সিআর.২৬