চুনারঘাট প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের বাসুল্লা পাহাড় এলাকায় এক গৃহবধূকে ঘর ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে একজনের নাম উল্লেখ করে, আরও একজনকে অজ্ঞাত আসামি করে চুনারুঘাট থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ এপ্রিল সোমবার রাতে বাসুল্লা (পাঁচগাইয়া) পাহাড়ি এলাকায় দরিদ্র কৃষকের স্ত্রী- দুই সন্তানের জননী ওই নারী ঘরে একা ছিলেন। তার স্বামী ও ছেলে জীবিকার তাগিদে মৌলভীবাজারে অবস্থান করছিলেন এবং মেয়ে নানার বাড়িতে ছিলেন।
রাত আনুমানিক ১২টার দিকে দুই ব্যক্তি ঘরের পেছনের দরজা ও টিন ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা ওই নারীকে জোরপূর্বক ঘর থেকে তুলে পাশের একটি টিলায় নিয়ে যায়। সেখানে তার পড়নের কাপড় দিয়ে হাত ও মুখ বেঁধে এক ব্যক্তি ধর্ষণ করে।
নির্যাতনের পর অভিযুক্তরা তাকে ঘটনাস্থলে ফেলে পালিয়ে যায়। রাত প্রায় ৩টার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই নারী পাশ্ববর্তী এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন।
পরে তাকে প্রথমে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠান।
মামলায় একই এলাকার মো. নূহ মিয়ার ছেলে মাসুক মিয়ার নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, ধর্ষণের সময় তার স্বর্ণালংকার ও ঘরে থাকা প্রায় ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। এছাড়া মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এদিকে, নির্যাতিতার স্বামী অভিযোগ করেন, মামলা করার পর স্থানীয় জামায়াত নেতা খলিলুর রহমানসহ কয়েকজন ব্যক্তি ৫ লাখ টাকায় আপসের জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। তবে তিনি এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
দ.ক.সিআর.২৬