শিহাব আহম্মেদ : বাংলাদেশে প্রতিটি সাংবাদিকই লেখাপড়া জানা এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় কমবেশী ডিগ্রীধারী চারদিকে শুধু-শুধু এলোমেলো সমালোচনা! সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে তর্কের চেয়েও আজ হাজার গুণ বেশি জরুরি হলো সংসদ সদস্য, ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের শিক্ষাগত ও চারিত্রিক মানদণ্ড নির্ধারণ করা। একজন সাংবাদিকের লেখায় ভুল থাকলে তা সম্পাদকের ডেস্কে সংশোধনের সুযোগ থাকে। কিন্তু দেশের নীতিনির্ধারণী আসনে কিংবা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির চেয়ারে যদি কোনো অশিক্ষিত, অযোগ্য, মাদকাসক্ত বা দখলবাজ বসে যায় তবে সেই ভুলের মাশুল দিতে হয় পুরো জাতিকে, যা কোনোভাবেই সংশোধন যোগ্য নয়। অযোগ্য নেতৃত্ব একটি রাষ্ট্রকে নিশ্চিত ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। তাই রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে সাংবাদিকদের আগে জনপ্রতিনিধিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সততার মানদণ্ড নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবী। পাশাপাশি সাংবাদিকদেরও শিক্ষাগত যোগ্যতা দরকার আছে।
ক্ষমতার গোপনীয়তা উন্মোচন সাংবাদিকতা, যা মূলত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা হিসেবে পরিচিত, রাষ্ট্র ও কর্পোরেট খাতের দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আড়াল করা সত্য জনসমক্ষে নিয়ে আসে। এর মূল লক্ষ্য হলো জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, দুর্নীতি প্রতিরোধ করা এবং সাধারণ মানুষকে সঠিক তথ্য জানানো। এটি গণতন্ত্রের একটি শক্তিশালী ভিত্তি, যা সমাজের অন্ধকার কোণে আলো ফেলে।ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, এবং নীতিবহির্ভূত কাজের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণসহ প্রতিবেদন তৈরি করে।
প্রভাবশালীরা যা ধামাচাপা দিতে চায়, তা অনুসন্ধানের মাধ্যমে জনসমক্ষে নিয়ে আসা,বর্তমান যুগে ডিজিটাল টুল, এআই (AI), এবং তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবহার করে বড় ডাটা সেট থেকে অনিয়ম খুঁজে বের করা। সমাজের শাসন ব্যবস্থা ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে সততার সাথে কাজ করা,ক্ষমতাধরদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় সাংবাদিকরা প্রায়শই মামলা, হামলা এবং খুনের শিকার হন। আইন ও প্রশাসনিক চাপের কারণে স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হয়, অনেক ক্ষেত্রে মিডিয়া হাউসগুলো বিজ্ঞাপন হারানো বা মালিকপক্ষের স্বার্থের কারণে সত্য প্রকাশে বাধা পায়।
১৯৭২ সালে ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিকদের দ্বারা মার্কিন প্রশাসনের ক্ষমতার অপব্যবহার উন্মোচন। এই ধরনের সাংবাদিকতা শুধুমাত্র তথ্যের পরিবেশন নয়, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য একটি শক্তিশালী মাধ্যম। ক্ষমতার সাথে সবসময় সাংবাদিকের দ্বন্দ্ব থাকে। সংবাদ মাধ্যম রাষ্ট্র ও রাজনীতির সমালোচনা করে, রাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সমালোচনা করে, অনিয়ম ও দুর্নীতি তুলে ধরে।
গণমাধ্যমের আরেকটি বড় কাজ হলো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে নজর রাখা; কোথাও কোনো অন্যায়-অনিয়ম বা জনগণের দুর্ভোগের ঘটনা ঘটলে তা সঠিকভাবে প্রকাশ করা।
দ.ক.সিআর.২৬