নিজস্ব প্রতিবেদক: মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বান এখন সময়ের দাবি ও অতিব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বক্তা ও লেখকরা বলছেন, মাদক আমাদের সমাজে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও জাতিকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে। মাদক যুব সমাজকে অন্ধকার পথে নিয়ে যাচ্ছে এবং দেশে দিনে দিনে মাদক সেবনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বক্তব্যে বলা হয়, এখন শহর ও গ্রামে হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে বিত্তবান পরিবারের বখাটে তরুণদের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানরাও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। মাদক গ্রহণের টাকার জন্য অনেক ক্ষেত্রে সন্তানরা বাবা-মায়ের ওপর অমানবিক আচরণ করছে। এমনকি নেশার টাকা না দেওয়ায় মা-বাবার ওপর নির্যাতন এবং হত্যার মতো ঘটনাও ঘটছে বলে উল্লেখ করা হয়।
আরও বলা হয়, প্রতিদিন বিভিন্ন সংবাদপত্র, অনলাইন পত্রিকা, টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদকের খবর প্রকাশিত হচ্ছে। মাদকাসক্ত তরুণরা শুধু সেবনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। ধর্ষণের মতো অপরাধেও তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রায় ৫০ লক্ষ, যার মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগই কিশোর ও তরুণ। মাদকাসক্তির কারণে নৈতিক অবক্ষয় ঘটছে এবং এর ফলে ধর্ষণ, চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে তরুণীদের মধ্যেও মাদকাসক্তি বাড়ছে, যা সামাজিক অবক্ষয়কে আরও গভীর করছে।
মাদক হিসেবে ইয়াবা, মদ, ফেনসিডিল, গাঁজা, অ্যালকোহল, ভাঙসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্যের কথা উল্লেখ করা হয়, যা শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। এসব মাদকের কারণে তরুণ সমাজ শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছে। কোথাও কোথাও কিশোর গ্যাং গঠনের অভিযোগও রয়েছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় স্কুল-কলেজে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করা হয়েছে। “মাদক ছেড়ে কলম ধরি, মাদককে না বলি” স্লোগানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচারণা ও আলোচনা সভা চলছে। তবে শুধু সচেতনতা নয়, মাদক ব্যবসায়ীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং সামাজিক সংগঠনসহ সকলকে মাদক প্রতিরোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবসসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর কথাও বলা হয়।
বক্তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে না পারলে যুব সমাজ ধ্বংসের দিকে যাবে। তাই মাদক নয়, জীবন ও ভবিষ্যৎ গড়ার আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখ্য যে, চুনারুঘাট উপজেলায় সবচেয়ে বেশি মাদকের ছড়াছড়ি ১নং গাজীপুর ইউনিয়নে আসামপাড়া ও সাদ্দাম বাজারে, আহম্মদাবাদ ইউনিয়নে কালিশিরি ও করইটিলা গ্রামে, ৩নং দেওরগাছ ইউনিয়নে চাঁনপুর ও আমতলি বাজারে ব্যাপক পরিমাণ লক্ষণীয়। এছাড়াও চুনারঘাট সদরের প্রায় সবকটি আবাসিক এলাকায় মাদকের ছড়াছড়ি দৃশ্যমান।
দ.ক.সিআর.২৬