স্থানীয় প্রতিববেদক: চুনারুঘাট উপজেলার কালিশিরি বাজারে এক শালিশ বৈঠকে স্থানীয় তরুণরা সরব হয়ে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, এলাকার সামাজিক অবক্ষয়, মাদক সমস্যা এবং দাঙ্গাবাজির ঝুঁকিতে তরুণ সমাজ, বাড়াতে হবে সচেতনতা।
গত (০৩ এপ্রিল) শুক্রবার কালিশিরি মধ্যবাজারে স্থানীয় দুই যুবক ফয়সল ও মানিকের মধ্যকার সংঘটিত মারামারিকে কেন্দ্র করে গতকাল শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে উক্ত শালিশ বৈঠকে কালিশিরি গ্রামের তরুণরা অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি আইন অমান্য করে এলাকার যুব সমাজকে মাদক ব্যবসায় ব্যবহার করছে, ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছে। আর তরুণ প্রজন্ম দিনদিন মাদক আসক্ত ও জেল জরিমানায় নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।
ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন পলাশের সভাপতিত্বে সাবেক মেম্বার দুলাল ভূইয়ার পরিচালনায় শালিশ সভায় উপস্থিত ছিলেন দেওরগাছ ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার মালেক মিয়া, বগাডুবি গ্রামের প্রবীণ মুরব্বি, সাবেক মেম্বার ছালেহ আহমেদ তালুকদার, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালাহ উদ্দিন বাবরু, আব্দুল্লাহ মেম্বার, সাংবাদিক আসাদ ঠাকুর, ইউপি সদস্য আঃ ছত্তার মোল্লা, ইউপি সদস্য শামীম মেম্বার, কৃষকলীগ নেতা মুজিবুর রহমান মুজিব, তরুণ ব্যবসায়িক আব্দুল্লাহ সহ প্রমুখ।
সালিশ সভায় মালেক মেম্বার বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদার করা জরুরি। এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলার উদ্যোগ নিতে হবে।
স্থানীয় বক্তরা বলেন, কালিশিরিতে ২ যুবকের মারামারির ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হয়- মাদকের থাবা তরুণ সমাজে গভীরভাবে বিস্তার করছে। বন্ধুবৃত্তের প্রভাব ও সহজ প্রাপ্তির কারণে অনেক কিশোর অজান্তেই জড়িয়ে পড়ছে ভয়ংকর এই নেশায়। এতে নষ্ট হচ্ছে ভবিষ্যৎ, ভেঙে পড়ছে পরিবার। তাই আমাদের অভিভাবকদের দায়িত্ব শুধু শাসন নয়, সন্তানের বন্ধু হয়ে পাশে থাকা। একই সঙ্গে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে প্রতিরোধ গড়তে। কারণ মাদক শুধু ব্যক্তিকে নয়, পুরো সমাজকে ধ্বংস করে।
চুনারঘাট উপজেলার গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি দুলাল ভুইয়া বলেন, “অপরাধে জড়িত কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।”
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালাহ উদ্দিন বাবরু বলেন, দলীয় পরিচয়ের আড়ালে কেও কোনো অপরাধ করলে সেটাও বরদাস্ত করা হবে না।
বক্তারা তরুণদের সঠিক পথে রাখতে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হওয়ার উদ্ধাত্ব আহ্বান জানান।
জাকির হেসেন পলাশ মনে করেন, দুর্নীতি ও অপরাধকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে একটি অপরাধচক্র। তিনি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। প্রশাসন ইতোমধ্যে কালিশিরি এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়িয়েছে এবং সমন্বিত অভিযান চালাচ্ছে।
কালিশিরি গ্রামের সৃজনশীল তরুণদের আশা- মাদক ও অপরাধের প্রভাবমুক্ত একটি নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজে তারা নির্ভয়ে জীবনযাপন করতে চান।
দ.ক.সিআর.২৬