স্পোর্টস ডেস্ক: মালদ্বীপের মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনায় শেষ পর্যন্ত হাসল বাংলাদেশই। টাইব্রেকারে ভারতকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা নিজেদের করে নিল লাল-সবুজের ফুটবলাররা।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে বাংলাদেশ-ভারত কোনো দলই জালের দেখা পায়নি। তবে গোলশূন্য স্কোরলাইন কখনোই ম্যাচের তীব্রতা বোঝাতে পারেনি। প্রথমার্ধে বাংলাদেশের ছন্দময় দাপট, আর দ্বিতীয়ার্ধে ভারতের আক্রমণাত্মক ঝড়- দুইয়ে মিলে ম্যাচটি হয়ে ওঠে এক রুদ্ধশ্বাস লড়াই। মাঠে প্রতিটি বলের দখল, প্রতিটি আক্রমণ যেন ছিল অস্তিত্বের লড়াই।
বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক মাহিন ছিলেন দৃঢ় প্রাচীরের মতো। অন্যদিকে পাল্টা আক্রমণে লাল-সবুজের ছেলেরা বারবার হুমকি ছড়ালেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মিলছিল না। গ্যালারিতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের কণ্ঠে তখন শুধু একটাই প্রার্থনা-একটা গোল, একটুখানি জাদু। কিন্তু সেই জাদু এলো অন্যভাবে-টাইব্রেকারের উত্তেজনায়।
টাইব্রেকারের মঞ্চে দাঁড়িয়ে যেন হৃদস্পন্দন থমকে গিয়েছিল হাজারো সমর্থকের। গোলের পর গোল, মিসের পর মিস-স্কোরলাইন এগোচ্ছিল সমানে সমান। ঠিক তখনই নাটকের চূড়ান্ত মুহূর্ত।
বাংলাদেশের চতুর্থ শট নিতে এগিয়ে এলেন স্যামুয়েল রাকসাম। হঠাৎই ভারতের গোলরক্ষক সুরজ সিং ব্যথায় কাতরাতে কাতরাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। মুহূর্তেই তাল কেটে গেল বাংলাদেশের। অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা আর মানসিক চাপ-সব মিলিয়ে তৈরি হলো এক অদ্ভুত পরিস্থিতি। চিকিৎসা শেষে ফিরে এলেন সুরজ, আর সেই মুহূর্তেই ঘটে গেল মোড় ঘোরানো দৃশ্য-স্যামুয়েলের শট লেগে ফিরে এল ক্রসবারে!
ভারত সমতায় ফিরল। উত্তেজনা তখন চরমে। কিন্তু নাটকের শেষ দৃশ্যটা যেন লেখা ছিল বাংলাদেশের হাতেই। ভারতের ওমং দুদু পঞ্চম শটে বল পাঠালেন বাইরে। সব চোখ তখন এক তরুণের দিকে-রোনান সুলিভান। শান্ত, স্থির, অটল। এক নিখুঁত শটে তিনি জাল কাঁপালেন, আর সঙ্গে সঙ্গেই বিস্ফোরিত হলো আনন্দ।
ফাইনালে ভারতকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখল বাংলাদেশ।
মালে স্টেডিয়াম মুহূর্তেই রাঙা হয়ে উঠল লাল-সবুজ উল্লাসে। খেলোয়াড়রা ছুটে গেলেন একে অপরের দিকে, গ্যালারিতে ঢেউ তুলল বাংলাদেশের পতাকা! সেই মুহূর্তে শুধু একটি কথাই সত্যি হয়ে উঠল-চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, আবারও!
দ.ক.সিআর.২৬