হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: মাধবপুর উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা আজ এক শ্রেণির সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের অপতৎপরতায় মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। বিশেষ করে শাবানা নামে এক নারীকে কেন্দ্র করে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, শাবানা কৌশলে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে চাঁদা আদায় করে আসছে। কখনো সে নিজেকে কথিত সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে, আবার কখনো বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। বাস্তবে তার কোনো স্বীকৃত গণমাধ্যমে সম্পৃক্ততা বা দায়িত্ব নেই বলে জানা গেছে। তথাপি, এই ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ব্ল্যাকমেইল করছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, শাবানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে টার্গেটকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বানোয়াট ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করছে। কেউ তার দাবি অনুযায়ী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে—যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও নিন্দনীয়।
শুধু তাই নয়, এই নারী উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করে প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ জনগণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং সরকারি পরিবেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে।
এদিকে, শাবানা নিজেকে একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করলেও, বাস্তবে তার কোনো সাংগঠনিক পদ নেই। বরং ওই দলের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সম্প্রতি তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শাহজাহানপুর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আলফাজ মালদারসহ দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করেছেন, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
এর আগেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে মিথ্যা ও উসকানিমূলক তথ্য প্রচারের অভিযোগে তাকে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে প্রত্যাখ্যান ও বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এমন কর্মকাণ্ড শুধু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে না, বরং রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
মাধবপুরবাসী মনে করেন, এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অংশ। তাই অবিলম্বে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
এলাকাবাসীর জোর দাবি—
এই চাঁদাবাজ চক্রের হাত থেকে মাধবপুরবাসীকে রক্ষা করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। একইসঙ্গে প্রকৃত সাংবাদিক সমাজকে ভুয়া পরিচয়ধারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে, যাতে গণমাধ্যমের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে।
দ.ক.সিআর.২৬