হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জে দিন দিন বাড়ছে অনলাইন জুয়া খেলা। এতে ধ্বংসের পথে ধাবিত হচ্ছে যুব সমাজ। এই অনলাইন বেটিং সাইটে জুয়া খেলে পথে বসেছেন অনেকেই।
জানা যায়, যারা একসময় হবিগঞ্জের অলিগলিতে জুয়া খেলতেন এমন ব্যক্তিরা এখন মোবাইল ফোনে এই অনলাইন জুয়ার দিকে ঝুঁকছেন। নাইন উইকেটস ডট কম, স্কাইফেয়ার এবং বেট ৩৬৫ সহ বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ জুয়া খেলার জন্য জুয়াড়িদের কাছে বেশি জনপ্রিয়।
এক্ষেত্রে জুয়াড়ি প্রথমে তার নিজস্ব একটি ইমেইল আইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে থাকেন। এরপর দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে অনলাইনের মাধ্যমে জুয়ায় অংশ নিতে পারেন।
সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া একাধিক জুয়াড়ির দেয়া তথ্য মতে হবিগঞ্জ জেলাজুড়ে রয়েছে অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক। যেখানে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে রয়েছেন নানা বয়সীরা। বিপিএল, আইপিএল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচকে কেন্দ্র করে চলে এই জুয়ার আসর।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করে দেশের বাইরে থাকা মূলহোতা বা সুপার এডমিন। সুপার এডমিন সর্বপ্রথম টাকা দিয়ে এই অ্যাপ ক্রয় করে পর্যায়ক্রমে একটি বড় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। তাদের মধ্যে কেউ সুপার, কেউ মাস্টার এজেন্ট। এ ছাড়া রয়েছে লোকাল এজেন্ট। এক্ষেত্রে নবাগতরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি আইডি লাগবে মর্মে পোস্ট লিখে থাকেন। পরবর্তীতে জুয়ার মূল নিয়ন্ত্রণ যার হাতে থাকে অর্থাৎ এডমিন একজন এজেন্ট নির্ধারণ করে দিলে তার মাধ্যমে আইডি খুলে শুরু হয় জুয়ার আসর।
এসব বেটিং সাইটগুলো অনলাইনে হওয়াতে শুধুমাত্র মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই তাতে বিভিন্ন ধরনের জুয়ায় মেতে উঠছে তারা। বিকাশ এবং রকেটের মাধ্যমে টাকা আদান প্রদানের সুযোগ থাকায় সহজেই এই খেলায় অংশ নিচ্ছেন যুবকরা। অনেকেই জুয়ার টাকা যোগাড় করতে তারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অ্যাপে জুয়া চক্রের একাধিক সদস্য গ্রেপ্তার হলেও ধরা ছোঁয়ার বাহিরে রয়ে গেছে অনেকেই। জেলার বিভিন্ন এলাকায় নানা-বয়সী মানুষ এখন এ খেলায় জড়িত।
ক্রিপ্টো কারেন্সি ও অবৈধভাবে ফরেন ট্রেডিংয়ের সঙ্গে জড়িত অ্যাকাউন্টের কালো তালিকা করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি অ্যাকাউন্টগুলোর লেনদেন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকাশ, নগদ, রকেটসহ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডারদের এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডারদের এক বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বৈঠকে উপস্থাপন করা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে এমএমএসের সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা ৫ কোটি ৫৫ লাখ এবং সক্রিয় এজেন্ট সংখ্যা ১৫ লাখ ২২ হাজার। বিপুলসংখ্যক সক্রিয় হিসাবের কারণে কিছু অসাধু চক্র স্বল্প সময়ে দ্রুত পদ্ধতিতে এমএফএসের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া পরিচালনা করছে।
এদিকে, সারাদেশে সাড়াশি অভিযান চলেও হবিগঞ্জে এ রকম কোন অভিযান আদৌ লক্ষ্য করা যায়নি।
দ.ক,সিআর.২৬