পবিত্র শবে বরাত, যা মুসলমানদের কাছে সৌভাগ্যের রাত হিসেবে পরিচিত। ফারসি ‘শব’ শব্দের অর্থ রাত, আর ‘বরাত’ শব্দের অর্থ সৌভাগ্য। আরবিতে একে বলা হয় ‘লাইলাতুল বরাত’। হিজরি বর্ষের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বিশ্বাস করেন, মহান আল্লাহ তার বান্দাদের গুনাহ ক্ষমা করেন এবং তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করেন।
বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত পালিত হয়েছে। সারা দেশের ন্যায় হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র শবে বরাত রাত উদযাপিত হয়েছে। মাগরিবের নামাজের পর থেকেই উপজেলার সকল মসজিদ, বিভিন্ন দরবার, মাদ্রাসা,খানকাহ সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা জমায়েত হয়ে ইমান - খতিবদের, পবিত্র শবে বরাত সম্পর্কে ওয়াজ নছিহত শ্রবণ করেন । অনেকেই সারা রাত নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত ও জিকির-আজকার দোয়া ও মিলাদ - কিয়ামের মাধ্যমে ইবাদতে মশগুল থাকেন।
শবে বরাত উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা সারা রাত ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনদের কবর জিয়ারত করে থাকেন। অনেকেই পরদিন নফল রোজা রাখেন, যা ইসলাম ধর্মের মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর সুন্নত।
উপজেলায় শবে বরাতের অন্যতম ঐতিহ্য হলো হালুয়া-রুটি তৈরি ও বিতরণ। পরিবারগুলোর মাঝে এ ঐতিহ্য শত শত বছর ধরে চলে আসছে। এছাড়াও পবিত্র শবে বরাত উদযাপন উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, পাড়া-মহল্লায় ব্যাক্তি উদ্যোগে দোয়া- মাহফিল ও মিলাদ - কিয়ামের আয়োজন করা হয়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শবে বরাত পালনের প্রথা ভিন্ন হলেও দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, পাশাপাশি তুরস্ক, ইরান, ইন্দোনেশিয়া ও মধ্য এশিয়ার কয়েকটি দেশে এটি বিশেষভাবে উদযাপিত হয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে এর প্রচলন তুলনামূলক কম।
সারা রাত ইবাদত-বন্দেগি শেষে ফজরের নামাজে মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন ।
দ.ক.সিআর.২৬