হাবিবুর রহমান নাসির: বাংলাদেশের প্রতিটি বাঁকবদলে একটি ধ্রুব সত্য বারবার প্রমাণিত হয়েছে—দেশের যেকোনো বিপদে সবার আগে বুক চিতিয়ে দাঁড়ায় ছাত্ররাই। ৫২, ৬৯ কিংবা ৭১-এর মতো ২০২৪ সালেও ছাত্ররা প্রমাণ করেছে, যখনই দেশ কোনো সংকটে পড়ে, তারা ব্যক্তিগত স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে রাজপথে অজেয় ঢাল হয়ে দাঁড়ায়।
১) ছাত্ররাই যখন অপরাজেয় ঢাল: ইতিহাস সাক্ষী, সাধারণ ছাত্ররা যদি রাজপথে ঢাল হয়ে না দাঁড়াতো, তবে কোনো স্বৈরাচারী শক্তির পতন ঘটানো সম্ভব হতো না। রাজনৈতিক দলগুলোর সীমাবদ্ধতা যেখানে প্রকট হয়ে ওঠে,ছাত্ররা সেখানে নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিয়ে নতুন ভোরের পথ দেখায়।
মুগ্ধ বা আবু সাইয়িদরা কোন পদের লোভে নয়, বরং দেশের মানুষের মুক্তির নেশায় নিজেদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করেছেন।
রাজনীতি দেশের একটি অংশ হতে পারে, কিন্তু বীর শহীদদের আত্মত্যাগ রাজনীতির চেয়েও অনেক বড়। শহীদদের এই অবদানকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ফ্রেমে বেঁধে ফেলা বা দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হবে তাঁদের সাহসিকতার অবমাননা। বীরেরা কোনো দলের নয়, বীরেরা পুরো জাতির। তাঁদের সম্মান জানানোটা কোনো দয়া নয়, বরং আমাদের জাতীয় কর্তব্য।
কদর না করলে জন্মাবে না নতুন বীর। একটি জাতির মেরুদণ্ড তখন শক্ত হয়, যখন তারা তাদের বীরদের সম্মান দিতে জানে। আমরা যদি আজ মুগ্ধ, আবু সাইয়িদ এবং অসংখ্য শহীদ ও আহতদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক মর্যাদা দিতে ব্যর্থ হই, তবে ভবিষ্যতে দেশের কোনো চরম দুঃসময়ে আর কাউকে নিঃস্বার্থভাবে এগিয়ে আসতে দেখা যাবে না। বীরের কদর না করলে বীরের জন্ম হওয়া থমকে যায়।
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা কেবল সভা-সেমিনারে সীমাবদ্ধ না রেখে তা হতে হবে কার্যকর:
রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি: তাঁদের ত্যাগকে কোনো রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে জাতীয় বীর হিসেবে ইতিহাসে অমর করে রাখা।
আদর্শের বাস্তবায়ন: যে বৈষম্যহীন ও ন্যায়বিচারপূর্ণ সমাজের জন্য তাঁরা ঢাল হয়েছিলেন, সেই সমাজ বিনির্মাণ করা।
পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা: তাঁদের পরিবার যেন সবসময় অনুভব করে যে, পুরো জাতি তাঁদের পাশে আছে।
পরিশেষে: ছাত্ররাই এদেশের প্রাণশক্তি। তাঁদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া এই সুযোগ যেন রাজনৈতিক তর্কে হারিয়ে না যায়। শহীদদের পবিত্র রক্ত আমাদের মনে করিয়ে দেয়—দেশ সবার আগে, আর সেই দেশের পাহারাদার হিসেবে ছাত্ররাই চিরকাল অমর হয়ে থাকবে।
লেখা: হাবিবুর রহমান নাসির সাংবাদিক
দ.ক.সিআর.২৬