কালনেত্র : সাইবার বুলিং হলো এমন এক ধরণের মানসিক নির্যাতন, যা ঘটে অনলাইনে — সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজ, কমেন্ট বা ছবি-ভিডিওর মাধ্যমে কাউকে অপমান, হেয় বা ভয় দেখানোর মাধ্যমে। বাস্তব জীবনের বুলিংয়ের মতোই এটি একজন মানুষকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে, পার্থক্য শুধু — এর আঘাত আসে পর্দার আড়াল থেকে।
আমরা বিশ্বাস করি, নিরাপদ ইন্টারনেট গড়ে তুলতে হলে প্রথম পদক্ষেপ হলো সচেতনতা ও দায়িত্বশীল ব্যবহার।
আজকের ডিজিটাল যুগে অনেকেই অজান্তে এমন আচরণে যুক্ত হয়, যেগুলো অন্যের জন্য কষ্টদায়ক। কখনো মজা করার ছলে কাউকে অপমান করা, কারো ছবি নিয়ে মিম বানানো, বা গোপন তথ্য প্রকাশ করা — সবই সাইবার বুলিংয়ের মধ্যে পড়ে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা, নারী এবং শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি এই সমস্যার শিকার হয়।
সাইবার বুলিং শুধু অনলাইন অপমান নয়; এটি একধরনের মানসিক সহিংসতা, যার ফলে অনেকেই হতাশায় ভোগে, আত্মবিশ্বাস হারায়, এমনকি ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়ে। তাই এটি কেবল “ভার্চুয়াল সমস্যা” নয়, বরং সামাজিক ও মানবিক ইস্যু।
প্রতিরোধের জন্য আমাদের সবার আগে সচেতন হতে হবে। কাউকে নিয়ে নেতিবাচক বা অপমানজনক কিছু শেয়ার করার আগে ভাবতে হবে — এটা যদি আমার সঙ্গে হতো, কেমন লাগতো? ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানো, অপরাধীদের রিপোর্ট করা এবং নীরব না থাকা — এগুলোই হতে পারে সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।
স্মরণ রাখুন, অনলাইনও বাস্তবের মতোই একটি সমাজ। তাই সেখানেও শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ জরুরি। সাইবার ৭১ (বাংলাদেশ) সবসময় কাজ করছে একটি নিরাপদ, সম্মানজনক ও সচেতন অনলাইন সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে।
“সচেতন হোন, সম্মান দিন, সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ান।”
দ.ক.সিআর.২৫