লাখাই উপজেলার ১ নং লাখাই ইউনিয়নের অন্তর্গত ৬ নং ওয়ার্ডের পুবেরহাটির নয়া বাড়ির গল্লার তালেবের সংলগ্ন পাকা রাস্তাটি নির্মাণের দুই মাস না যেতেই ভেঙেচুরে একাকার। নিম্নমানের কাজ এবং সঠিক তদারকির অভাবকেই এই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী করছেন স্থানীয়রা। যে রাস্তা দিয়ে দৈনিক হাজার হাজার মানুষের চলাচল, তার এমন করুণ দশা দেখে ক্ষোভ আর হতাশা প্রকাশ করেছেন গ্রামবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে রাস্তাটি পাকা করা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার মাত্র দুই মাস পরেই রাস্তার বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দেয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তাটি সম্পূর্ণ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, "এই রাস্তাটি নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে করা হয়েছিল। কাজ চলাকালীনও আমরা এর মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। মনে করা হচ্ছে, সঠিক তদারকের চরম অভাবের সুযোগ নিয়ে ঠিকাদার দায়সারাভাবে কাজ শেষ করে দিয়েছেন। এর ফল ভোগ করতে হচ্ছে আমাদের।"
রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে এটির কোনো সরকারি সংস্কার হয়নি। এমতাবস্থায়, বর্ষা ও অন্যান্য সময়ে কাদা-জল পেরিয়ে মানুষের চলাচল করাই দায় হয়ে পড়ে। এই দুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে এসেছেন এলাকার মানুষজন নিজেরাই।
গ্রামের ফান্ডে টাকা দিয়ে বর্তমানে রাস্তার ভাঙা অংশগুলোতে মাটি ভরাট করে কোনোমতে চলাচলের উপযোগী রাখার চেষ্টা চলছে। স্থানীয়রা জানান, নিজেদের টাকায় মাটি ফেলে সাময়িক ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে, কারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।
হাজার হাজার মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করে স্কুল, কলেজ, হাট-বাজারে যাতায়াত করেন। রাস্তাটির বেহাল দশায় রোগী বহন, জরুরি চলাচল এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জনদুর্ভোগ কমাতে গ্রামের মানুষজন নিজ উদ্যোগে মাটি ভরাট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
লাখাইয়ের ৬ নং ওয়ার্ডের স্থানীয়রা একযোগে প্রশাসনের কাছে দ্রুত এই রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে অনতিবিলম্বে রাস্তাটির পুনর্নির্মাণ ও মানসম্মত কাজ নিশ্চিত করা হোক।
এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পুবেরহাটির নয়া বাড়ির গল্লার তালেবের সংলগ্ন এলাকার ভুক্তভোগী জনসাধারণ।
দ.ক.সিআর.২৫